অ্যারিওপ্যাজিটিকা

120.00৳ 


ষোলশ চুয়াল্লিশ সালের নভেম্বর মাসে গৃহযুদ্ধের ডামাডােলের মধ্যে অ্যারিওপ্যাজিটিকা প্রকাশিত হয়। চল্লিশ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকা। পার্লামেন্টের উভয় সভার সদস্যদেরকে উদ্দেশ করে ভাষণের ভঙ্গিতে লিখিত। এর পেছনে উদ্দেশ্য ছিল দুটি। প্রথমটি পরিষ্কার : পার্লামেন্টের জারি করা একটি হুকুম, ১৬৪৩ সালের ১৪ই জুনের মুদ্রাযন্ত্র নিয়ন্ত্রণবিধি, পার্লামেন্টকেই অনুরোধ করা হচ্ছে প্রত্যাহার করে নিতে। দ্বিতীয় কারণটি গৃঢ় না হলেও অন্তত প্রথম নজরে ধরা পড়ে না। মিল্টন ‘৪৩ সালে তার প্রথম বিবাহ-বিচ্ছেদ বিষয়ক প্রবন্ধটি প্রকাশ করেন, তার জন্য আগে থেকে কোনো অনুমতি গ্রহণের প্রয়োজন বোধ করেন নি। প্রবন্ধটি নিজের নামেই তিনি ছাপেন, কিছুদিন আগে জারি করা আইন পুরোপুরি লঙ্ঘন করে। কাজটি শুধু যে বেআইনি হল তা-ই নয়, প্রবন্ধে তিনি বিবাহ সম্বন্ধে যে মত প্রকাশ করলেন, তাতে অনেকেই চমকে উঠলেন। বিবাহকে তিনি ধর্মীয় এবং চার্চ কর্তৃক সযত্নে। লালিত রহস্যময়তা থেকে মুক্ত করে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে একটি চুক্তি হিসেবে দেখলেন, যা-স্বর্গীয় না–অপরিবর্তনীয়। এখানেই থামলেন না। পর বছর, ‘৪৪ সালে প্রবন্ধটির একটি বর্ধিত ও পরিমার্জিত দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করলেন, এবং এবারেও সরাসরি মুদ্রণ বিষয়ক আইনটি অগ্রাহ্য করে। এতে সমাজে রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হল। যাজকেরা ক্ষুব্ধ হলেন। এঁদের মধ্যে একজন পার্লামেন্ট সমীপেই নালিশ করলেন ধর্মবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী এই ধৃষ্টতার বিচার দাবি করে। এ অবস্থায় মিল্টনও সরাসরি পার্লামেন্টের সামনেই হাজির হলেন, অপরাধী হিসেবে নয়, বন্ধু হিসেবে, হিতৈষীর ভূমিকায়। পুস্তিকাটির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একটি বন্ধুত্বপূর্ণ আন্তরিকতার সুর স্পষ্ট। যাদের উদ্দেশ করে এই সত্যের পূজারী একটি স্বাধীন দেশের মানুষদের জন্য চিন্তায়, ভাবনায়, কর্মে ও ধর্মে সর্বাঙ্গীণ স্বাধীনতার দাবি জানাচ্ছেন, তাদেরকে তিনি আপনজন বলেই জানেন। তারাও সত্যের বীর সেনানী। তারা একদিকে রাজতন্ত্র, অপরদিকে যাজকতন্ত্র—এই দুই শত্রুর সাথে কঠিন যুদ্ধে নেমেছেন, যার চূড়ান্ত জয়-পরাজয় তখনো স্থির হয় নি। এবং ভাষণটি ছাপলেন, এবারো মুদ্রণ সংক্রান্ত আইনের বরখেলাপ করে, পূর্বানুমতি না নিয়ে, কোম্পানি অব্ স্টেশনার্সকে একেবারে তাচ্ছিল্য করে।
এ সময় মিল্টনের বয়স ছত্রিশ বছর। দেশের রাজনৈতিক সংকটের সংবাদে বিচলিত হয়ে প্রবাস জীবনের আনন্দ থেকে স্বেচ্ছায় নিজেকে ছিনিয়ে নিয়ে তিনি স্বদেশে এসে পৌঁছেন ৩৯ সালের আগস্ট মাসে। পরবর্তী পাঁচ বছরে তিনি একদিকে যেমন পিতৃহীন দুটি ভাগিনেয়র শিক্ষকতার ভার তুলে নিয়েছেন ও ক্রমাগত পরিকল্পনা করে চলেছেন তার অমর মহাকাব্যের বিষয় ও গঠন সম্বন্ধে, তেমনি আবার অজ্ঞাতসারে জড়িয়ে পড়েছেন সমসাময়িক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের মধ্যে।

3 in stock

SKU: Abosar Prokashana Sangstha_248 Categories: ,

Book Details

Weight0.24 kg
Publisher

Abosor অবসর

Reviews

Reviews

There are no reviews yet.

Only logged in customers who have purchased this product may leave a review.